শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে চরম বিশৃঙ্খলা: তিন বছর আগের নোটিশে ঝুলছে অনলাইন সেবা
25 October 2026 —
শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের ওয়েবসাইট তদারকি ও নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের অভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অনলাইন সেবা কার্যক্রম চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য কল্যাণ সুবিধার জন্য আবেদন করতে গিয়ে সরকারি এই ডিজিটাল পোর্টালে তিন বছর আগের একটি পুরাতন নোটিশ দেখতে পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে সাময়িক সময়ের জন্য সার্ভার বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রকাশিত ওই নোটিশটি এখনো সচল থাকায় সেবাপ্রার্থী শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ট্রাস্টের নির্ধারিত অনলাইন আবেদন সংক্রান্ত পোর্টালের মূল পাতায় ঝুলছে সার্ভার আপগ্রেডেশনের পুরনো ঘোষণা। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, ২০২৩ সালের ১৮ মে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কারিগরি কাজের জন্য সার্ভার বন্ধ থাকবে। তবে উক্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার দীর্ঘদিন পর হলেও পোর্টালে একই বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। এর ফলে জীবনের শেষ সম্বল বা প্রাপ্য অর্থ বুঝে পেতে অনলাইনে আবেদন করতে আসা শিক্ষকেরা সেবাটি আসলেই চালু আছে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয়ে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষক নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চাকরিজীবন শেষে কষ্টার্জিত কল্যাণ তহবিলের অনুদান পেতে তারা ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদনের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পোর্টালে প্রবেশ করলেই সাইট বন্ধের পুরনো বার্তাটি ভেসে উঠছে। ফলে কোনো ফর্ম পূরণ বা নথিপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিজিটাল সেবার এমন অবহেলা ও বেহাল দশা অবসরপ্রাপ্ত বয়োবৃদ্ধ শিক্ষকদের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারি ওয়েবসাইট দেখভালকারী সংস্থা এটুআই (a2i) কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জাতীয় পোর্টাল টিম মূলত সরকারি দপ্তরগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। তবে ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ, সংশোধন ও হালনাগাদ করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। কল্যাণ ট্রাস্ট পোর্টালে থাকা পুরনো নোটিশ সরানো বা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার সচল করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকেই গ্রহণ করতে হবে।
সার্ভারের বর্তমান পরিস্থিতি ও পুরনো নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের কারিগরি কর্মকর্তা জানান, পিএইচপি (PHP) কোডিং ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে প্যাচ আপডেটের কাজ করা হচ্ছে। তবে তিন বছর আগের বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। বন্ধের দিনে কাজ করার কারণে এমন বিভ্রান্তি হতে পারে উল্লেখ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতের এই যুগে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বজ্ঞানহীন এমন উদাসীনতায় চরম ক্ষুব্ধ সেবাপ্রার্থীরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্ভারটি সচল করে ও ভুলের নিরসন ঘটিয়ে নির্বিঘ্ন সেবা চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com