কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বয়ংক্রিয়তা আনলেও জবাবদিহি নয়: জাতিসংঘ সভাপতি
17 October 2026 —
নিউইয়র্ক: দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই যুগে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের হার ক্রমশ বাড়লেও শ্রমিকের মৌলিক অধিকার এবং নৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। আমেরিকার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ১৬তম ‘এনগেজিং বিজনেস ফোরাম’-এর মূল অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, এআই প্রযুক্তি কাজের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে পারলেও নীতিগত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় করতে পারে না। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সারসংক্ষেপে এই তথ্য জানানো হয়।
‘এআই অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব ওয়ার্ক: আ হিউম্যান রাইটস ইমপারেটিভ’ শীর্ষক এই বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ব বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের সামনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষ বিশ্ব অর্থনীতিতে অভাবনীয় নতুন সম্ভাবনার পথ উন্মোচন করছে। তবে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে যুক্ত হচ্ছে, তা যেমন গতি এনেছে, তেমনি মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বহু প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নিয়োগ, কর্মপরিবেশের সার্বিক ট্র্যাকিং, কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং চাকরি সংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এতে কর্মীদের ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা বা ডেটা প্রাইভেসি, স্বচ্ছতা এবং বৈষম্যহীন জবাবদিহি নিয়ে জটিল সব প্রশ্ন উঠছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে দায়িত্বশীল তদারকি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অ্যালগরিদমের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত যদি কোনো কর্মীর জীবিকা কিংবা পেশাগত ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করে, তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার ও তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্মূল্যায়নের অর্থবহ অধিকার কর্মীদের প্রদানের জন্য তিনি জোরালো দাবি জানান। এআই ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগের প্রতিটি ধাপে সরাসরি কর্মচারীদের সম্পৃক্ত ও সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সাধারণ পরিষদ সভাপতি।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং সম্ভাব্য অপব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া সাইবার আক্রমণ, মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকির বিষয়টিও ফোরামে আলোচনায় উঠে আসে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিভিন্ন দেশের সরকারকে প্রযুক্তির ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে আরো বেশি দায়িত্বশীল, সতর্ক ও মানবকেন্দ্রিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিশেষে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বনেতা ও শিল্প খাতের প্রধানদের জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ‘গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্ট’-এর নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দেন। প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি শ্রমিকের আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com