গুগলের জেমিনি এআই পরীক্ষার সময় ৩টি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ
24 September 2026 —
নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর সময় প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের জেমিনি এআই ভুলবশত তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এই মডেলটি একটি গবেষণা পরীক্ষার অংশ হিসেবে কাজ করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এসব সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উদীয়মান এআই প্রযুক্তির সুরক্ষা ব্যবস্থা ও এর সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আমেরিকান গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রাক জার্নালের একটি প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’ (Irregular) এর পরিচালিত এক পরীক্ষার সময় ঘটনাটি প্রথম ঘটে। পরীক্ষায় জেমিনিকে একটি কাল্পনিক কোম্পানির ডাটা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে মডেলটিকে ইন্টারনেটে যুক্ত করা হলে এটি বাস্তব জগতের একটি প্রতিষ্ঠানের পাসওয়ার্ড অনুমান করতে সক্ষম হয় এবং সেটির প্রশাসনিক সিস্টেমে ঢুকে পড়ে।
বিষয়টি সম্পর্কে গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার অ্যাডকিন্স জানান, জেমিনি মূলত ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে গোপন সংকেত বা পাসওয়ার্ড অনুমান করেছিল। মডেলটি এটিকে তার পরীক্ষামূলক কাজেরই অংশ মনে করে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। তবে গুগল জোর দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, মোট তিনবার এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও প্রতিবারই কোনো ক্ষতিকারক কাজ সম্পাদন করার আগেই মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যায়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইরেগুলার’ গত জুলাই মাসের শেষের দিকে বিষয়টি নিয়ে গুগলকে সতর্ক করেছিল। অবশ্য গুগলের দাবি, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই এআই মডেলের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ বা লক্ষ্যচ্যুত হওয়া বলা যাবে না। প্রতিষ্ঠানের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করার কারণেই ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিষয়টির সমাধান সম্ভব হয়েছে বলে জানায় গুগলের নিরাপত্তা দল।
উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বখ্যাত অন্যান্য এআই মডেল যেমন অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লড’ কিংবা ওপেনএআই-এর প্রযুক্তি মডেলেও একই ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে অননুমোদিত প্রবেশের পর নিজে থেকে কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ার দিক থেকে জেমিনির প্রতিক্রিয়া ছিল স্বতন্ত্র। তা সত্ত্বেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার দেওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি বাস্তব প্রমাণ।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com