Marketing

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার: প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিশেষ নজর

image (2)

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও বেইজিং। গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান ক্লাবে চীনের জাতীয় দিবস উদযাপন এবং বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ‘বাংলাদেশ-চীন কালচারাল, ইকোনমিক অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন সেন্টার’ আয়োজিত এই গালানিউজে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের কৌশলগত বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রায় চীন একটি সময়পরীক্ষিত ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঐতিহাসিকভাবে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও সুদৃঢ় করতে গভীর অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সেই ধারায় বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দুদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকায় বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের প্রায় চার বছরের কূটনৈতিক মেয়াদের ভূয়সী প্রশংসা করে ড. মঈন খান আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মেগা প্রকল্প, অবকাঠামোগত রূপান্তর এবং শিল্পের আধুনিকীকরণে চীনা রাষ্ট্রদূত অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করতে ভূমিকা রাখায় বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব এনাম বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও টেলিযোগাযোগ খাতের অগ্রগতিতে চীনের প্রকৌশলগত সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, সেলুলার টাওয়ার ব্যাকহল, ফাইভ-জি রোলআউট, সাবমেরিন ক্যাবল এবং ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো নির্মাণে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান অপরিসীম।

আগামীর ডিজিটাল রূপান্তরকে বেগবান করতে মন্ত্রী ফকির মাহবুব এনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড আর্কিটেকচার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। এ জাতীয় যৌথ কারিগরি উদ্যোগ দুদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি অভিমত দেন।

সংবর্ধনার জবাবে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তাঁর দীর্ঘ কর্মকালে সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও শিল্পায়নে বেইজিং সর্বদা পাশে থাকবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান তিনি।

Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *