প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর সম্পন্ন: চার দিনে ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
26 September 2026 —
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে চার দিনের ব্যস্ততম সফর সম্পন্ন করে নিউ ইয়র্ক থেকে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই সফরে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, উচ্চপর্যায়ের একাধিক সম্মেলন এবং মূল অধিবেশনে ভাষণসহ মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সফরকালে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। চার দিনে তিনি তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি ও ইরানসহ ১১টি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের মূল অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, ন্যায়বিচার, সমতা এবং বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার দূরদর্শী রূপরেখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। সাধারণ পরিষদের মূল বক্তৃতা ছাড়াও তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে আয়োজিত বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এসব প্ল্যাটফর্মে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি।
অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সফরের শেষ দিনে জেপি মর্গান চেস আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তিনি সরাসরি মতবিনিময় করেন। সেখানে বাংলাদেশের আর্থিক খাত, প্রযুক্তি ও টেকসই শক্তি উৎপাদনে মার্কিন বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং বোয়িং ও গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সফরের সমাপনী দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের (আইপিআই) প্রেসিডেন্ট জায়েদ রা’য়াদ আল হুসেইনের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই দিনে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা সুসংহত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিদল ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি নারী নেতৃত্ব ফোরাম, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউস সংলাপ ও মাতৃস্বাস্থ্যবিষয়ক সংলাপে বক্তব্য প্রদানসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন। চার দিনের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com