ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিল নগদ, পেলেন বিশেষ সম্মাননা সেরা প্রতিনিধিরা
17 October 2026 —
বিশ্ব ডাক দিবস ও ডাক সেবা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে দেশের ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ প্রদান করেছে তাদের অন্যতম সফল ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। একই সাথে দেশজুড়ে ডিজিটাল আর্থিক সেবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য নগদের ছয়জন সেরা প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডাক ভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি নগদ-এর প্রতিনিধি ও পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নগদ বর্তমানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ-কে আর্থিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ইতোমধ্যে ১৮ কোটি টাকার বিশাল লভ্যাংশ পাওয়া গেছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সফল ফিনটেক প্ল্যাটফর্মটি সামনের দিনগুলোতে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ডিস্ট্রিবিউটর, উদ্যোক্তা এবং নগদ সেবা প্রতিনিধি—এই তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছয়জন প্রতিনিধিকে পুরস্কৃত করা হয়। ডিস্ট্রিবিউটর ক্যাটাগরিতে পঞ্চগড়ের এইচ. টি. এন্টারপ্রাইজের মো. সাইদুজ্জামান শিপলু এবং নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার আইডিয়াল কানেকশনের নবনীত সাহা সম্মাননা লাভ করেন। উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে নেত্রকোনার রনি টেলিকমের মো. রনি মিয়া ও কক্সবাজারের নাজিম কম্পিউটারের নাজিম উদ্দিন এবং সেবা প্রতিনিধি ক্যাটাগরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুশফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও বগুড়ার মো. ইমরান হক দিহানকে পুরস্কৃত করা হয়।
চলতি বছর ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশব্যাপী উদযাপিত হয় ডাক সেবা সপ্তাহ। এ উপলক্ষে যোগাযোগ, বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল আর্থিক সেবাকে এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে পোস্টাল ব্যালট ও ডাকসেবায় অবদান রাখা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগে মোট ২৯ জন প্রতিনিধিকে সম্মানিত করা হয়, যা দেশের ফিনটেক খাতের যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এদিকে গ্রাহকসেবা আরও উন্নত ও সুরক্ষিত করতে সম্প্রতি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ চালু করেছে নগদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের বহুস্তরীয় নিরাপত্তাকাঠামো যুক্ত এই অ্যাপে লেনদেনের সময় জালিয়াতির ঝুঁকি প্রতিরোধে ডিভাইস বাইন্ডিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত নগদের প্রশাসক জানিয়েছেন, গ্রাহকদের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা জোরদার করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
ডিজিটাল আর্থিক খাতের এই আধুনিকায়ন এবং ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি টাকা লভ্যাংশ প্রদানের ঘটনাটি দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের এই সফলতা দেশের ক্যাশলেস সমাজ গঠনের যাত্রাকে আরও বেগবান করবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com