বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস চালু: স্টার্টআপ খাতে বড় বিনিয়োগের নতুন সুযোগ
24 October 2026 —
দেশের সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা ও নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে ৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ প্রাথমিক মূলধন নিয়ে বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানো, স্থানীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পকে চাঙ্গা করা এবং দেশীয় উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করাই এই তহবিলের প্রধান লক্ষ্য।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই নতুন ফান্ডের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের মেধা ও যোগ্যতার অভাব নেই। তবে প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে যেন কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে না যায়, সে জন্য একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১১ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন করেছে, তবে এবার বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সময় এসেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজারদের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (আরইওআই) আহ্বান করা হয়। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই তহবিলের সার্বিক পরিচালনা কাঠামো ও বিনিয়োগ কৌশল তুলে ধরেন। তিনি জানান, কঠোর সুশাসন, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই ফান্ড পরিচালিত হবে। নির্বাচিত দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে এই মূলধন বিনিয়োগ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুমুখী করতে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে স্টার্টআপ খাতের ভূমিকা অপরিসীম। কেবল অর্থায়ন নয়, বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সঠিক নির্দেশনা, মেন্টরশিপ, বাজারসংযোগ ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্র তৈরি করবে এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে তিনি দেশে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সহজে মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিগত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হলেও সেখানে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় মূলধন কাঠামো শক্তিশালী হবে এবং দীর্ঘদিনের এই বৈষম্য দূর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে দেশীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্পের বিকাশ ঘটার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঁঞা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার সমর্থিত এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ দেশের আর্থিক প্রযুক্তি অবকাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। উদ্ভাবননির্ভর তরুণ সমাজকে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয় করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিকেন্দ্রে পরিণত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com