বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস: স্টার্টআপ খাতে ৪০০ কোটি টাকার নতুন তহবিল চালু
24 September 2026 —
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এই বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধার কোনো ঘাটতি নেই, তবে অর্থের অভাবে যাতে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থমকে না যায়, সে জন্য একটি টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পেশাদারিত্ব, সুশাসন ও দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস পরিচালনা করা হবে। একই সাথে শুধুমাত্র সরকারি অর্থায়নের মুখাপেক্ষী না হয়ে বেসরকারি মূলধনকেও এ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড ইতোমধ্যে দেশের ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১১ কোটি টাকা সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। তবে প্রস্তাবিত এই তহবিলের মাধ্যমে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন সমন্বিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক দশকে দেশের স্টার্টআপ খাত প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ পেলেও এতে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অবদান ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। নতুন এই উদ্যোগ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমুখী করতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং স্টার্টআপ খাত চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তরুণ উদ্যোক্তাদের কেবল মূলধন দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাদের টেকসই বিকাশের জন্য সঠিক মেন্টরশিপ, আন্তর্জাতিক বাজার সংযোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা আবশ্যক। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ অবকাঠামো শক্তিশালী করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই তহবিলের পরিচালনা কৌশল উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছতা বজায় রেখে যোগ্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড ম্যানেজার নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশের আবেদন (REOI) আহ্বান করা হয়েছে।
নতুন এই তহবিলের সুবাদে দেশের সার্বিক স্টার্টআপ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটার পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় ফান্ড ম্যানেজারদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে পরিণত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
Published with WpNewblog — www.rameshpoudel.com